ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের আজব সুপারিশ নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-১০ ১৮:৫১:৫২
জামায়াত আমিরের আজব সুপারিশ নিয়ে তোলপাড় জামায়াত আমিরের আজব সুপারিশ নিয়ে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার একজন উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, ওই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলীয়দের পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।

 
এই চিঠির কথা জানাজানির পর এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। এ প্রেক্ষিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিভ্রান্তি এড়াতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা পদে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে,গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এমন পদায়ন কখনো হয়নি। এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এমন পদায়ন হয়েছে বলে শোনা যায় না। যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে বড় সংকট কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সব দল একসঙ্গে কাজ করার নজির রয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতিতে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

বিশেষ করে, চিঠিতে উল্লিখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার অংশে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের বিষয়ে জামায়াত জানায়, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে জানানো হয় যে, ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমির অবগত ছিলেন না। একই সঙ্গে আগের উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী।

কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধন করার নীতিতে দল বিশ্বাস করে এবং এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ